ভাটি বাংলা ডেস্ক: ২৩ অক্টোবর ২০২৪ , ৩:৪৮:৪৭ অনলাইন সংস্করণ
নবীগঞ্জে নিখোঁজ কলেজ অধ্যক্ষ মো. ফজলুর রহমানের রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে তোলপাড় চলছে।
মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশের দিনও তার পদত্যাগ চেয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে তার অফিস কক্ষের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় তার পালিয়ে যাওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। গত রোববার দিনব্যাপী অধ্যক্ষ ফজলুর রহমানের পদত্যাগ নিয়ে আন্দোলনের পর রাতে অধ্যক্ষের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে।
ওইদিন বিকালে নিহতের স্ত্রী সৈয়দা সুলতানা আক্তার স্বামীর সন্ধান চেয়ে নবীগঞ্জ থানায় জিডি করেন। গতকাল দুপুরে ঢাকা মেডিকেল থেকে নিহতের মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্তে মাঠে রয়েছে। অধ্যক্ষ মো. ফজলুর রহমানের মৃত্যুর খবরে পরিবার ও ছাত্র-শিক্ষকসহ সর্বমহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রহস্য উদ্ঘাটনে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করেছেন তার সহকর্মীরা। পুলিশ ও জিডি সূত্রে প্রকাশ, গত বৃহস্পতিবার অনার্সের ১মবর্ষে অতিরিক্ত ফি আদায়সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে অধ্যক্ষকে দেড় ঘণ্টা তার কার্যালয়ে তালা দিয়ে রাখেন শিক্ষার্থীরা।
খবর পেয়ে পুলিশ ও শিক্ষকরা তালা খুলে অধ্যক্ষ মো. ফজলুর রহমানকে মুক্ত করেন। এ সময় রোববার অভিযোগের বিষয়ে ছাত্র-শিক্ষক বৈঠকের আশ্বাস দিয়ে কলেজ ত্যাগ করেন অধ্যক্ষ মো. ফজলুর রহমান। শুক্রবার সকালে নবীগঞ্জ শহরের ওসমানী রোডের বাসা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বোনের বাড়ি যাওয়ার কথা বলে বের হন তিনি।
এরপর থেকেই পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। রোববার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কলেজ প্রাঙ্গণে কর্মসূচি পালন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে শিক্ষকদের তালাবদ্ধ করে রাখে। প্রায় ১ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর উপস্থিত শিক্ষকরা অধ্যক্ষের পরিবারের বরাত দিয়ে বলেন, অধ্যক্ষ মো. ফজলুর রহমান দু’দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে অধ্যক্ষ মো. ফজলুর রহমানের নিখোঁজের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত আবেদন করেন কলেজ শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. আমির হোসেন।
বিকালে অধ্যক্ষ মো. ফজলুর রহমানের স্ত্রী সৈয়দা সুলতানা আক্তার স্বামী মো. ফজলুর রহমান নিখোঁজের বিষয়টি উল্লেখ করে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এতে উল্লেখ করেন, শুক্রবার সকাল ৮টায় নবীগঞ্জ শহরের ওসমানী রোডের বাসা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বোনের বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন অধ্যক্ষ মো. ফজলুর রহমান।
এরপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। সাধারণ ডায়েরির পর পুলিশের তরফে দেশের সকল থানায় বার্তা পাঠানো হয়।
এরই সূত্র ধরে গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকার শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল খালেক নবীগঞ্জ থানাকে খবর দেন, অধ্যক্ষ ফজলুর রহমানের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাওয়া গেছে। এ সময় তিনি জানান, গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে জহির নামে জনৈক ব্যক্তি ফজলুর রহমানকে অজ্ঞান অবস্থায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করেন। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে তিনি মারা যান। অধ্যক্ষ ফজলুর রহমানের মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই অধ্যক্ষ ফজলুর রহমানের মৃত্যুর মূল কারণ জানা যাবে। উল্লেখ্য, গত ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে নবীগঞ্জ সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন ফজলুর রহমান। অধ্যক্ষ ফজলুর রহমানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ কামাল হোসেন বলেন, কী কারণে মৃত্যু হয়েছে এর সঠিক কারণ জানা যায়নি।
মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ জানার পর প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।